বৈপ্লবিক সরকার বলতে কোন বস্তু নাই

:

শ্রেণী বিলোপ করতে আপনি কেন রাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে পারেন না

cloudfront.crimethinc.com/assets/articles/2018/05/29/header.jpg

এমা গোল্ডম্যান বিষয়টা জানতেন। রুশ বিপ্লবের প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে মিখাইল বাকুনিন সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ব্ল্যাক প্যানথার পার্টি এবং ব্ল্যাক লিবারেশন আর্মির ভেটেরান অশ্যান্তি আলস্টন এবং কুয়াসি বালাগুন একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। বিপ্লবী সরকার বলতে কিছুই নেই। আপনি সরকারের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিপীড়ন বিলোপ করতে পারেন না।

মধ্য উনিশ শতক থেকে অরাজপথীরা বলে আসছে যে মুক্তির পথে চাবি রাষ্ট্র দখল করা নয় বরং তাকে বিলোপ করা। তথাপি প্যারিস থেকে সেন্ট পিটার্সবুর্গে, বার্সেলোনা থেকে বেইজিং, বিপ্লবীদের একের পর এক জেনারেশনকে কঠিনভাবে এই শিক্ষা নিতে হয়েছিল। ক্ষমতার ভেতরে এবং বাইরে রাজনীতিবিদদের রদবদল বা উলটপালট খুব কমই পরিবর্তন করে। যা কিছু এতে ক্রীড়নকের ভূমিকা পালন করে তা হলে শাসনের যন্ত্রপাতি- পুলিশ, মিলিটারি, আদালত, কারাগার সিস্টেম, আমলাতন্ত্র। একজন রাজা হোক কিংবা একজন স্বৈরশাসক হোক অথবা একটি কংগ্রেস হোক যা এসব যন্ত্রপাতিকে পরিচালনা করে, গ্রহণকারী প্রান্তের অভিজ্ঞতা মোটামুটি একই থাকে।

এটা ব্যাখ্যা করে কেন ২০১১-২০১৩ সালের মিশরীয় বিপ্লবের ফল ১৯১৭-১৯২১ সালের রুশ বিপ্লবের ফলাফলের সাদৃশ্য যা ১৮৪৮-১৮৫১ সালের ফরাসি বিপ্লবের ফলাফল একই। প্রতিটা কেসে, জনতা যারা বিপ্লব করেছিলেন তারা যখনই সরাসরি সামাজিক পরিবর্তন করা বন্ধ করে দিলেন এবং তাদের আশা রাজনৈতিক প্রতিনিধির কাছে সমর্পন করে দিলেন, ক্ষমতা একটি নতুন স্বৈরশাসকের হাতে কেন্দ্রীভূত করে দিলেন। নতুন স্বৈরাচার মিলিটারি থেকে আসুক না কেন, অভিজাততন্ত্র কিংবা শ্রমিক শ্রেণি, তারা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিংবা সর্বহারার ক্ষমতা করায়ত্ব করে নিতে, শেষ ফলাফল মোটামুটি একই থেকে যায়।

সরকার নিজেই একটা শ্রেণি সম্পর্ক। আপনি শাসক এবং শাসিতের মধ্যে অসমতা বিলুপ্ত না করে শ্রেণি সমাজের বিলোপ ঘটাতে পারেন না। অর্থনীতি হল কেবল বহুমাত্রিক ক্ষেত্রের একটা যাতে সংকেতযুক্ত ক্ষমতার বিভাজনগুলো সামাজিক কাঠামোর দ্বারা আরোপিত থাকে; রাজনীতি অন্য বিষয়। অর্থনীতির জন্য পুঁজির ব্যক্তিমালিকানা যা রাজনীতির জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তা।

রাষ্ট্রের একটি সমালোচনা ছাড়া এমনকি সফল বিপ্লবীরাও তাদের বেলায় নিপীড়ক হয়ে উঠতে বাধ্য, যেসব শাসকদেরকে তারা উচ্ছেদ করেছে তাদেরই জায়গা নিয়ে।

শেণি সমাজ বিলোপ করার জন্য রাষ্ট্রকে ব্যবহার করা যেতে পারে, পরে রাষ্ট্র কোন না কোনভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এমন প্রতিজ্ঞার দ্বারা মার্কস এবং লেনিন বিপুল পরিমাণ কনফিউজন তৈরি করেছিলেন। অন্যভাবে বলতে, “শ্রমিকরা”-বলার জন্য, আসলে একটি পার্টি নিজেকে ঘোষণা দেয় শ্রমিকদের রিপ্রেজেন্ট করার জন্য, অন্যান্য ক্ষমতাসীন দল যা করে- পুলিশ, মিলিটারি, আদালত, কারাগার সিস্টেম, আমলাতন্ত্র, রাষ্ট্রের সব ধরণের যন্ত্রপাতিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে, কিন্তু এসব সমতা ম্যাজিক্যালি সমতা উৎপাদন করতে শুরু করবে অসমতা তৈরি করার চেয়ে। এসব একটা প্রশ্নের অবতারণা ঘটায়: রাষ্ট্র কি? সর্বোপরি, এটা হল কিছু বিশেষ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বৈধতার ঘনীভূতকরণ, জনতার বিপরীতে তারা শাসন করে। এটা হল অসমতার একান্ত সংজ্ঞা, যেমনটা এটা সুবিধাভূক্ত করে তাদের যারা এসব এসব যন্ত্রপাতির সাহায্যে অন্য সবার উপর ক্ষমতা ধরে রাখে। মার্কসবাদী এবং লেনিনবাদীরা যেখানে সফলভাবে বিপ্লবের বহুবার ক্ষমতা দখল করেছে, সেসবের কোনটাই শ্রেণি সমাজ বিলোপ করতে সফল হয় নি- এবং বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার চেয়ে, ফলাফলে রাষ্ট্র কেবল আরও অধিক ক্ষমতাধর এবং আক্রমণকারী হয়েছে। Sonvilier Circular যেভাবে লিখেছে, “কীভাবে আমরা একটি কর্তৃত্ববাদী সংগঠন থেকে একটি সমতার এবং মুক্ত সমাজ প্রত্যাশা করতে পারি?”

যখন বিপ্লবীরা পুঁজির ব্যক্তিমালিকানা দ্বারা তৈরি শ্রেণি অসমতাগুলো আনডু (পূর্বাবস্থায়) করার চেষ্টা করে যা পুঁজির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে ন্যস্ত করে, তখন এটা কেবল সাধারণভাবে সেই শ্রেণি তৈরি করে- যারা রাজনৈতিক ক্ষমতায় তাদেরকে একটি নতুন পুঁজিবাদী শ্রেণিতে পরিণত করে। এর জন্য একটি শব্দ হল রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ। যেখানে আপনি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা দেখতে পাবেন, সেখানে আপনি শ্রেণি সমাজ দেখতে পাবেন। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের একমাত্র আসল সমাধান হচ্ছে এমন মেকানিজমগুলো বিনষ্ট করা যা প্রথমেই ক্ষমতা বিভাজনের সৃষ্টি করে- রাষ্ট্রীয় কাঠামোগুলো ব্যবহার করে নয়, বরং আত্মনির্ধারণ এবং যৌথ প্রতিরক্ষার জন্য হরায়জন্টাল নেটওয়ার্কগুলো সংগঠিত করে যা যে কোন অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক অভিজাতের সুবিধাগুলো অসম্ভব করে তোলা। এটা হল হল ক্ষমতা দখলের বিপরীত।

সব ধরণের সরকার এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে। যে কোন সরকারের ক্ষমতা দখলের প্রথম শর্ত হল এটা অবশ্যই একটি একচেটিয়া জোরপূর্বক শক্তি অর্জন করবে। এই মনোপলি অর্জনের সংগ্রামে ফ্যাসিবাদী নিষ্ঠুরতা, কমিউনিস্ট স্বৈরাচার এবং উদারবাদী গণতন্ত্র একে অপরের সঙ্গে সাদৃশ্যে মিলিত হয়। এবং এটা অর্জন করার জন্য এমনকি সর্বাধিক দৃশ্যমান রেডিক্যাল পার্টি সচরাচর অন্যান্য ক্ষমতার খেলোয়ারদের সঙ্গে সংঘর্ষে সমাপ্তি ঘটায়। এই কারণেই বলশেভিকরা জারিস্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছিল এবং বিদ্রোহ দমনের নীতি প্রয়োগ করেছিল; এটা ব্যাখ্যা করে কেন তারা বারবার পেটি বুর্জোয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছিল অরাজপথীদের বিপরীতে গিয়ে, প্রথমে রাশিয়ায় এবং পরে স্পেনে এবং সবখানে। ইতিহাস মিথ্যাকে পুরনো অজুহাতে ঢেলেছে যা পুঁজিবাদ বিলোপ করার জন্য বলশেভিক নিপীড়নের প্রয়োজন ছিল। বলশেভিজমের সঙ্গে সমস্যা এটা ছিল না যে এটা একটি বৈপ্লবিক এজেন্ডা প্রস্তাব করার জন্য পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করে না কিন্তু এটা ধ্বংস করতে বরং পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করেছিল।

এসবের কোন কিছুই স্বীকার করা বিশেষভাবে জনপ্রিয় নয়, যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতাকা অনুজ্জ্বল হয়ে আসছিল, ম্রিয়মান হয়ে যাওয়া পর্দায় যেখানে জনতা যা ইচ্ছে প্রতিকায়িত করতে পারে। একটি জেনারেশন যা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে জন্ম নিয়েছিল সেই পাইপলাইনের সেই স্বপ্নকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে শুরু করল যা রাষ্ট্র আমাদের সব সমস্যা সমাধান করবে যদি সঠিক মানুষ দায়িত্বে থাকে।

লেনিন এবং স্তালিনের সহমত ভাইরা নিজেদের জন্য ঠিক একই অজুহাত তৈরি করতে শুরু করল যা আমরা পুঁজিবাদের সমর্থকদের কাছ থেকে শুনছি, তাদের শাসনামলে ভোক্তাদের উপকার পাওয়ার পদ্ধতির প্রতি নির্দেশ করে কিংবা লক্ষ লক্ষ জনতা যাকে তারা নিপীড়ন করেছে, কারাবন্ধী করেছে এবং হত্যা করে তারা আসছে।

১৯৫৬ সালের বিদ্রোহ দমন করতে বুদাপেস্টের রাজপথ দিয়ে রুশ সাজোয়া ট্যাঙ্ক আসছিল।

যে কোন ক্ষেত্রে বিংশ শতাব্দীর রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্রে ফিরে যাওয়া অসম্ভব। যেমনটা পুরনো ইস্টার্ন ব্লক জোকস প্রচলিত আছে, সমাজতন্ত্র হল পুঁজিবাদ থেকে পুঁজিবাদে যাওয়ার একটি বেদনাদায়ক রূপান্তর। এই অবস্থা থেকে, আমরা দেখতে পারি যে বিংশ শতকের সমাজতন্ত্রের এই অস্থায়ী কর্তৃত্ব ইতিহাসের পরোমন্নতি ছিল না যেমনটা মার্কস পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, কিন্তু ছিল পুঁজিবাদের একটি স্তরের উন্নয়নে এবং সম্প্রসারণে।

“বাস্তব বিদ্যমান সমাজতন্ত্র” সামন্তীয় উত্তর অর্থনীতিকে বিশ্ববাজারে শিল্পায়ন করেছে; এই রূপান্তরের মাধ্যমে বিরামহীন কর্মশক্তিকে স্থিতিশীল করেছে একই পদ্ধতিতে যা ফোরডিস্ট কম্প্রমাইজ করেছিল পশ্চিম। শ্রম এবং পুঁজির মধ্যে রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র এবং ফোরডিজম উভয়েরই ছিল একটি অস্থায়ী সমঝোতার প্রকাশ।

আজকে, অবাধ মুক্তবাজার পুঁজিবাদ এমনকি সুইডেন ও ফ্রান্সসহ সামাজিক-গণতান্ত্রিক স্থায়িত্বের শেষ দ্বীপগুলোকে গ্রাস করতে চলেছে। পুঁজিবাদ সংস্কারের প্রতিশ্রুতিতে যেখানেই বাম দলগুলো ক্ষমতায় আসে, সেখানেই তারা চরমপন্থী পদক্ষেপ এবং দমনসহ একটি নব্য-উদারবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাধ্য হয়।

ফলস্বরূপ, তাদের ক্ষমতায়ন প্রেরণার তৃণমূল আন্দোলনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যেখানে ডানপন্থী প্রতিক্রিয়াশীলদের বিদ্রোহী হিসেবে জাহির করতে সমর্থ করেছে জনপ্রিয় বিক্ষোভ ছিপিবদ্ধ করার জন্য। এই গল্পটি ঘটেছে ব্রাজিলে ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে, গ্রিসে সিরিজার সঙ্গে, নিকারাগুয়ায় ওর্তেগা প্রশাসনের সঙ্গে।

“বিপ্লবী” সরকারের অন্য একমাত্র মডেল উপস্থাপিত হচ্ছে শ্মশ্রুহীন রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদী চীন, যাতে অভিজাতরা সম্পদ কেন্দ্রীভূত করছে নির্দয়ভাবে শ্রমিকদের পরিশ্রমের বিনিময়ে ঠিক যেমন আমেরিকাতে তারা করেছিল। এর আগে সোভিয়েত রাশিয়ার মতো, চীন নিশ্চিত করেছে যে অর্থনীতির রাষ্ট্রীয় প্রশাসন সাম্যের দিকে একটি পদক্ষেপ নয়।

ভবিষ্যতে নিওলিবারেল নির্মমতা (neoliberal immiseration), জাতীয়তাবাদী এনক্লেভ, একনায়কতন্ত্রের কমান্ড অর্থনীতি কিংবা নিজেই সম্পত্তির অরাজপথী বিলুপ্তি হতে পারে - সম্ভবত এটি সমস্ত কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করবে- তবে পুঁজিবাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে এমন কোনও সরকারের* জন্য এই বিভ্রমকে রক্ষা করা ক্রমবর্ধমানভাবে কঠিন হবে কিন্তু গুটিকতকের জন্য তা হবে। ফ্যাসিবাদী এবং অন্যান্য জাতীয়তাবাদী এই বিভ্রান্তির মূলধনকে কাজে লাগিয়ে বর্জনীয় সমাজতন্ত্রের নিজস্ব ভার্সন প্রচার করার জন্য মূলত আগ্রহী; যদি এটা যথাযথভাবেপরিচালিত*** হয় তাহলে রাষ্ট্র শ্রমিক শ্রণির সেবা করতে পারবে- এই ধারণার বৈধতা দেয়ার জন্য আমাদের উচিত নয় তাদের পথ সুগম করে দেয়া।

cloudfront.crimethinc.com/assets/articles/2018/05/29/7-bn.jpg

কেউ কেউ তর্ক করেছেন যে ফ্যাসিবাদের মতো আরও তাত্ক্ষণিক হুমকিগুলোতে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আমাদের কর্তৃত্ববাদী সাম্যবাদের সমর্থকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব স্থগিত করা উচিত। তবুও বাম সর্বগ্রাসবাদের ব্যাপক ভয় ফ্যাসিস্ট নিয়োগকারীদেরকে তাদের বক্তব্যের প্রধান ভঙ্গি দিয়েছে। হৃদয় ও মন জয়ের প্রতিযোগিতায় যারা এখনো কোন পক্ষ বেছে নেন নি, সামাজিক পরিবর্তনের জন্য তাদেরকে এটা শুধু সাহায্য করতে পারে আমাদের প্রস্তাবনা এবং সেসব স্তালিনপন্থী এবং অন্যান্য কর্তৃত্ববাদীদের কাছ থেকে যেগুলো এসেছে তার মধ্য স্পষ্ট পার্থক্য করতে।

পুঁজিবাদ, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনপ্রিয় সংগ্রামের মধ্যে ভবিষ্যতের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে প্রতিযোগিতার সমান গুরুত্ব প্রদান করা উচিত। সেটা না করা মানে হবে আগেই ধারণা করা যে এসব দৃষ্টিভঙ্গির কোনটা ফল দেয়া শুরু করার আগে আমরা পরাজিত হব। অরাজপথী, মেনশেভিক, সমাজতন্ত্রী-বৈপ্লবিক এবং অন্যান্যরা কঠিনভাবে শিক্ষা পেয়েছে ১৯১৭ সালের পরে যে বিজয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়া আরও বেশি ধ্বংসাত্মক হতে পারে পরাজয়ের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার চেয়ে।

ভাল খবর হল যে বিপ্লবী আন্দোলনকে সেভাবে শেষ হতে হবে না রাশিয়ান বিপ্লবের মতো। আরেকটি উপায় আছে।

পুঁজিবাদ এবং রাষ্ট্র বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্র ক্ষমতার খোঁজার পরিবর্তে, আমরা স্বায়ত্তশাসনের জায়গা উন্মুক্ত করে দিতে পারি, রাষ্ট্র থেকে লেজিটিম্যাসি ফেলে দিয়ে এবং আমাদের চাহিদাগুলো সরাসরি পূরণ করার সক্ষমতা বিকাশ করতে পারি। একনায়কতন্ত্র ও সেনাবাহিনীর পরিবর্তে, আমরা বিশ্বব্যাপী রাইজোম্যাটিক (rhizomatic) নেটওয়ার্কগুলো তৈরি করতে পারি যে আমাদের উপর ক্ষমতা আরোপ করতে চায় এমন সব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একে অপরকে রক্ষা করার জন্য। আমাদের সমস্যার সমাধান করার জন্য নতুন প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে থাকার পরিবর্তে, আমরা স্বেচ্ছাসেবামূলক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সহায়তার ভিত্তিতে তৃণমূল সংগঠন তৈরি করতে পারি। রাষ্ট্র পরিচালিত অর্থনীতির পরিবর্তে, আমরা অানুভূমিক ভিত্তিতে নতুন কমন্স প্রতিষ্ঠা করতে পারি। এটা হল অরাজপথী বিকল্প, যা ১৯৩০ এর দশকে স্পেনে সফল হতে পারত যদি এটাকে একদিকে ফ্রাঙ্কো আর অন্যদিকে স্তালিন দুমড়ে-মুচড়ে না ফেলত। চিয়াপাস এবং কাবিলিয়া থেকে অ্যাথেন্স এবং রোজাভা, বিগত তিন দশকের সব ধরণের প্রেরণাদায়ী আন্দোলন এবং বিদ্রোহীগুলো অরাজপথী মডেলের উপাদান গৃহীত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সমাধানগুলোর সমর্থকরা দাবি করে যে তারা অধিক দক্ষ, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তারা কি কাজে অধিক কার্যকর? মুক্তির কোন শর্টকাট নেই; এটা উপরে থেকে আরোপিত করা যাবে না। আমরা যদি প্রকৃত সমতা তৈরির লক্ষ্যে থাকি, তবে আমাদের এমনভাবে সংগঠিত করতে হবে যে এটাকে প্রতিফলিত করে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে এবং সব ধরণের ক্রম-কর্তৃত্বতন্ত্রকে বা হায়ারার্কি প্রত্যাখ্যান করে।

সরাসরি পদক্ষেপে বা ডাইরেক্ট অ্যাকশন এবং সংহতির মাধ্যমে জরুরী চাহিদাগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম স্থানীয় প্রকল্পগুলো তৈরি করা, বিশ্বব্যাপী তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা, আমরা এমন এক রাস্তার দিকে ধাপে ধাপে এগোতে পারি যেখানে কেউ অন্য কাউকে শাসন করতে পারে না। আমরা যে ধরনের বিপ্লব চাই তা রাতারাতি ঘটতে পারে না; গৃহ থেকে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূতকরণের সমস্তকিছু ধ্বংস করার একটি চলমান প্রক্রিয়া।

আমাদের যুগের সংকট তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিপ্লবী সংগ্রামগুলোর উত্থান ঘটতে বাধ্য। অরাজ বৈপ্লবিক পরিবর্তনের একমাত্র প্রস্তাব যা রক্তসাগরে নিজেকে ভাসিয়ে দেয় নি। নতুন শতাব্দীর জন্য এটাকে হালনাগাদ করা আমাদের উপর নির্ভর করে নয়তো আমরা সবাই অতীতের পুনরাবৃত্তি করার জন্য নিন্দিত হব।


cloudfront.crimethinc.com/assets/articles/2018/05/29/6.jpg